জহুরুল ইসলাম

জহুরুল ইসলাম (১ আগস্ট ১৯২৮ – ১৯ অক্টোবর ১৯৯৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশী উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন “ইসলাম গ্রুপ” এর প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান।

জহুরুল ইসলাম এর প্রারম্ভিক জীবন

১৯২৮ সালের ১ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার অন্তর্গত ভাগলপুর গ্রামে তার জন্ম।

তিনি সরারচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন।

কলকাতা যাওয়ার পর রিপন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। 

উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্যতার কারণে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি।

১৯৪৮ সালে তিনি তৎকালীন সিএন্ডবি-তে স্বল্প বেতনে কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন।

কর্মজীবন

জহুরুল ইসলাম সিএন্ডবিতে অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেন এবং সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ক্ষুদ্র ঠিকাদারি ব্যবসায় শুরু করেন।

১৯৬৫-এ তিনি ইষ্টার্ন হাউজিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। জহুরুল ইসলাম ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে কিশোরগঞ্জে খুলেছিলেন দুই শত লঙ্গরখানা।

এসব লঙ্গরখানায় সকল দরিদ্র অভুক্ত মানুষের জন্য ৫ মাস ব্যাপী খাদ্য নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিডিসি)। এ কর্পোরেশন বাংলাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান যা মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্মাণ ব্যবসা শুরু করে।

তার কোম্পানী বাংলাদেশ সংসদ ভবনের আঙ্গিনা, বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, বাংলাদেশ হাইকোর্ট ভবন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বিল্ডিং, এমপি হোস্টেল, এবং বাংলাদেশের প্রধান প্রধান মহাসড়কসমূহ নির্মাণ করে।

তিনি পাট ও আসবাবপত্র কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। 

মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য ব্যবসার মধ্যে রয়েছে নতুন প্রযুক্তিতে আবুধাবিতে ৫০০০ বাড়ি নির্মাণ, ইরাক ও ইয়েমেনে উপশহর নির্মাণ ইত্যাদি।

এই সকল কাজের মাধ্যমে তিনি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।

বাংলাদেশের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি কিংবদন্তি। ১৯৮৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।

জহিরুল ইসলামের শৈশব

জহুরুল ইসলামের শৈশব কেটেছে ভাগলপুর গ্রামে। স্থানীয় স্কুলে ৫ম শ্রেণি পড়ার পর সরারচর শিবনাথ হাইস্কুল ও পরবর্তীতে বাজিতপুর হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন।

চাচা মুর্শিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার পর রিপন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।

এরপর বর্ধমান জেলার একটি কলেজে ভর্তি হলেও চলে আসেন মুন্সীগঞ্জে এবং পড়ালেখা করেন হরগঙ্গা কলেজে।

মেধাবী জহুরুল ইসলামের ছিল শিক্ষার প্রতি অসীম আগ্রহ কিন্তু অর্থনৈতিক টানাপড়েন ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে উচ্চশিক্ষা পরিহার করে চাকরিতে যোগ দেন ১৯৪৮ সালে।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি তৎকালীন সিঅ্যান্ডবিতে স্বল্প বেতনে যোগদান করেন।

কিন্তু প্রখর দুরদর্শিতা ও অদম্য সাহসের অধিকারী এ মানুষটি নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে নিজেই বড় কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। অল্পদিনের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন।

স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করলেও অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে নিজের অধ্যবসায় ও প্রজ্ঞাবলে তার কর্মপরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে।

‘বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন’ তার  প্রতিষ্ঠিত ইসলাম গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান।

জহিরুল ইসলাম

অল্প বয়স থেকেই অনেকবার শুনে শুনে মনের ভিতরে গেঁথে গিয়েছিল একটি নাম ‘জহুরুল ইসলাম’।

তখন কেবল জানতাম তিনি তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।

অনেক বছর পরে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি যোগ দিলাম জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে। সেটা ১৯৯৪ সাল।

কলেজটি তার নিজ গ্রাম ভাগলপুরে যা বাজিতপুর উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত।

সম্পূর্ণ শান্ত-সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে বিশাল ক্যাম্পাসে তখন হাসপাতাল ও কলেজের বিভিন্ন ইমারত নির্মাণের কাজ চলছে।

এখানে আসার পর মরহুম জহুরুল ইসলাম সম্পর্কে যতই জানতে পারি ততই বিস্ময়ে অবাক হতে থাকি। এ মানুষটি সম্পর্কে অল্প কথায় সবকিছু লেখা সম্ভব নয়, তবুও সাহস করে তার জীবন-চরিত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করছি।জহুরুল ইসলাম এ জনপদের একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি এবং শিক্ষাসহ সামাজিক উন্নয়নের প্রায় সর্বক্ষেত্রে নজিরবিহীন অনন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারী এ বিস্ময়কর প্রতিভার জন্ম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভার ভাগলপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং মাতা রহিমা খাতুন।

মৃত্যু এবং উত্তরাধিকার

১৯৯৫ সালের ১৯শে অক্টোবর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।তার একমাত্র পুত্র মঞ্জুরুল ইসলাম বর্তমানে ইসলাম গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here