মোহনকিশোর নমোদাস
মোহনকিশোর নমোদাস

মোহনকিশোর নমোদাস ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী।

জন্ম

মোহনকিশোর নমোদাসের জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে।

তিনি ১৯৩৩ সালের ২৬ মে জন্মগ্রহন করেন।

তিনি ছিলেন বাংলার দলিত সম্প্রদায়ের এক অস্বচ্ছল কৃষক পরিবারের সন্তান।

মোহনকিশোর নমোদাস
বৃটিশ আন্দোলন

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন নরমপন্থী এবং চরমপন্থী, এই দু’টি বিপরীত ধারায় সম্পন্ন হয়েছিল।

এই আন্দোলন ও ভারতের সর্ববস্তরের মানুষ এর মিলিত আন্দোলনের ফলে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ভারত বিভাগের মাধ্যমে ভারত এবং পাকিস্তান নামে দু’টি দেশ সৃষ্টি হয়।

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল একটি পরিব্যাপ্ত, একত্রীভূত বিভিন্ন জাতীয় এবং আঞ্চলিক অভিযান বা আন্দোলন যা অহিংস ও বৈপ্লবিক উভয় দর্শনের প্রচেষ্টায় এবং ভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছিল।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব এবং অন্যান্য ঔপনিবেশিক প্রশাসন শেষ হয়। সাধারণ ছিল।

পর্তুগিজের দ্বারা কর্ণাটকে ঔপনিবেশিক বিস্তারের শুরুতে ষোড়শ শতকে প্রথম প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছিল।

সপ্তদশ শতকের মধ্য ও শেষ ভাগে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বারা উত্তর ভারতে ঔপনিবেশিক বিস্তারের প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছিল।

মহারাষ্ট্রে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ বিদ্রোহের আগুন জ্বালেন বাসুদেব বলবন্ত ফাড়কে।

অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে এই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল।

তারা প্রার্থনা, আবেদন-নিবেদন এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে এক মধ্য পন্থা অবলম্বন করেছিল।

ফলে উনিশ শতকের প্রথম ভাগে লাল-বাল-পাল এবং শ্রী অরবিন্দ এর দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের রাজনৈতিক স্বাধীনতার আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদ ইন্দো-জার্মানি ষড়যন্ত্রএবং গদর ষড়যন্ত্র প্রভাব বিস্তার করছিল।

যুদ্ধের শেষ প্রান্তে কংগ্রেস অহিংস আন্দোলনের নীতিমালা অবলম্বন করেছিল এবং অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধী নেতৃত্ব দিয়েছিল।

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু’র মত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ পরবর্তীকালে একটি বৈপ্লবিক দর্শন অবলম্বন করে আন্দোলনে করতে এসেছিলেন।

এরপর

ভারত ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজশক্তির স্বায়ত্বশাসনে ছিল।

তারপর ভারত একটি প্রজাতন্ত্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। পাকিস্তান ১৯৫৬ সালে একটি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অধিকার লড়াইয়ের একটি গৃহযুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছিল তার ফলে গণতন্ত্রের স্থগিতাবস্থা এসেছিল।

স্বাধীনতা আন্দোলন পরিণামস্বরুপ বিশ্বের নেতৃত্বদানের অন্যান্য অংশতে একই আন্দোলনের মাধ্যমে একটি প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল ও কমনওয়েলথ জাতির সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং এর বদলানোর ভেঙে। অহিংস প্রতিরোধের গান্ধীর দর্শন মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিল ও মার্টিন লুথার কিং (১৯৫৫-১৯৬৮) এর নেতৃত্ব দিয়েছিল। মায়ানমারে গণতন্ত্রের জন্য অং সান সু চি’র মধ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতে বর্ণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেসের লড়াই নেলসন ম্যান্ডেলা’র মধ্যে নেতৃত্ব দিয়েছিল। উপরন্তু এই সমস্ত নেতারা অহিংস এবং অপ্রতিরোধ্যের গান্ধীর নিয়মনিষ্ঠ নীতিতে অনুগত থাকেননি।

মোহনকিশোর নমোদাস এর বিপ্লবী কর্মকাণ্ড

অনুশীলন বিপ্লবী দলের কর্মী হিসেবে তিনি ১৯৩২ সনে নেত্রকোণা সোয়ারিকান্দা গ্রামে রাজনৈতিক ডাকাতির অভিযোগে অন্যান্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন। বিচারে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হোন। তারপর আন্দামান সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। সেখানে ১৯৩৩ সালে দলবদ্ধ অনশন সংগ্রাম শুরু হয়। তখন তিনি তাতে অংশগ্রহণ করেন। অনশনরত অবস্থায় তার উপর যে অত্যাচার হয় তাতেই তিনি মারা যান।

মোহনকিশোর নমোদাস এর মৃত্যু

১৯৩৩ সনে অনশন চলাকালে তাকে জোর করে খাওয়াবার নাম করে বর্বর প্রাণ হত্যার কাজ চলে। এই আন্দোলনে মোহিতমোহন মৈত্র এবং মহাবীর সিং ও শহীদ হয়েছিলেন। মোহিতমোহন মৈত্র তার পাশের কেবিনে বন্দি ছিলেন। এবং মোহিতমোহনের দুদিন আগে বিপ্লবী মোহনকিশোর মারা যান। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মোহনকিশোর এক বিস্মৃত ও অবহেলিত শহীদ।

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here