কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার কুড়িখাই মেলা। ইতিহাস অনুযায়ী এই মেলা প্রায় ৪০০ বছর ধরে প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

বারো আউলিয়াদের একজন হযরত শাহ শামসুদ্দিন আওলিয়া ৪০০ বছরের, আগে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশে কটিয়াদির কুড়িখাই এলাকায় আসেন, তখন থেকেই তাঁর মাজারের ওরসকে কেন্দ্র করে কুড়িখাই মেলা আয়োজন হয়। প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ সোমবার থেকে শুরু হয় এই মেলা চলে ৭দিন। এখানকার স্থানীয় মানুষজন সারা বছর ধরে অপেক্ষা করে এই সময়ের।আশেপাশের সকল মানুষের ভিড়ে পুরো সময় জুড়েই এই মেলা জমজমাট হয়ে থাকে। সারাদেশ থেকে ফকির দরবেশ সহ সমাগম হয় লাখো মানুষের।গ্রামীন মেলার যে সব ঐতিহ্য থাকে তার সবকিছুই থাকে এই মেলায়। মেলায় পাওয়া যায় না এমন কিছু নেই। সেই সাথে চলে ওরস ও সারা দেশ থেকে আসা সাধুদের নানা কীর্তি।

কুড়িখাই মেলা

এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো মাছের মেলা। মেলা প্রঙ্গনের একপাশে বসে বিশাল বিশাল ও নানা বাহারী মাছের বাজার। রীতি অনুয়ায়ী এলাকার মেয়েদের জামাইদের দাওয়াত দেওয়া হয়। জামাইদের মধ্যে মাছ কেনা নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা, কে কত বড় মাছ কিনে শ্বশুর বাড়ি গেলো এই নিয়ে চলে মাতামাতি। আর সেই মাছ দিয়েই হয় শ্বশুরবাড়িতে জামাইদের আপ্যায়ন। মেলার পুরো সময় ধরেই এলাকায় বিরাজ করে আনন্দঘন পরিবেশ।
একসময় গ্রামে গঞ্জে সারাবছরই ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরণের গ্রামীন মেলা হতো। যুগের সাথে আমাদের মন মানসিকতা তাল মিলাতে গিয়ে এই গ্রামীন মেলা গুলো এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক এইরকম গ্রামীন মেলা এখন খুব কমই দেখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here