নারীর সুস্থ্যতাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস

একজন নারীর সুস্থতার জন্য দরকার সঠিক খাদ্যাভ্যাস। যেটি আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। হোক সে গৃহিণী অথবা কর্মজীবী বা চাকুরীজীবী। সে বাসার ভিতরে বাহিরে সমান ভাবে কাজ করে এবং ঘুম থেকে উথার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত সে এই ব্যাস্ত সময় পার করে। সংসার বা অফিসের কাজে নারীরা যতটা সচেতন তারা নিজের প্রতি কখনো এতটা সচেতন নন বেশির ভাগ নারীরা। নিয়ম মতো খাবার গ্রহণ না করা বা নির্দিষ্ট রুটিন ফলো না করার জন্য অনেকের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে থাকে। অনেকের আবার ওজন বাড়ার মত নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

সকালের নাশতা
কখনোই সকালের নাশতা বাদ দেওয়া চলবে না।

অনেকেই সকালে নাশতা করেন না আর করলেও অনেক বেলা হয়ে যায়। সকালের নাশতা করা অনেক জরুরী। কারণ সারাদিনে ক্যালরির চাহিদা পূরণ করতে হলে ৩০-৪০ শতাংশ সকালের নাশতা থেকে গ্রহণ করে থাকি। তাই সুস্থ্য থাকার জন্য কোনো ভাবেই সকালের নাশতা বাদ দেওয়া যাবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চা চামচ চিয়া সিড+ এক চা চামচ লেবুর রস+ এক গ্লাস কুসুম গরম পানি অথবা যাদের গ্যাসের সমস্যা আছে। তারা সকালে খালি পেটে লেবুর রসটা বাদ দিতে পারেন।

অনেকই সকালের নাস্তা অনেক দেরিতে করেন। কিন্তু উত্তম নিয়ম হল যতটা সকালে নাস্তা করা যায় ততই আমাদের শরীরের জন্য ভালো।

সকালের নাস্তায় আপনাকে শক্তিশালী এবং উত্তম খাবার রাখতে হবে। উত্তম খাবারের তালিকা ধরলেই আপনি দখতে পারবেন একটি ডিম সাথে এক কাপ সমপরিমাণ ডাল ও সবজি, আর এর সাথে শক্ত খাবার হিসেবে থাকবে লাল আটার ২ টি রুটি। অথবা আপনি খেতে পারেন এক মুঠো চিড়া অথবা ওটস সাথে নিতে হবে একটি কলা এবং পরিমাণ মত দুধ বা টক দই।

আবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ভিটামিন সি যুক্ত যেকোনো একটি ফল অথবা মৌসুমি ফল এক কাপ + অল্প পরিমাণে বাদাম + এক কাপ গ্রিন টি।

দুপুর বেলার খাবার
অনেকেই দুপুরের খাবার অনেক দেরি করে খায় কিন্তু উত্তম সময় হচ্ছে একটা থেকে দুইটার মধ্যে খাওয়া।

ভাত এক কাপ অথবা রুটি দুটি, শাক দুই টেবিল চামচ, মিক্সড সবজি হাফ কাপ, মাছ অথবা মুরগি দুই পিস, ডাল হাফ কাপ, লেবু এবং শসা।

অনেক মহিলা আছেন যারা দুপুরের খাবার খেতে খেতে বিকেল হয়ে যায়। অনেকে তো আবার ইচ্ছা করে দুপুরের খাবার বাদ দিয়ে দেন যা কখনোই উচিত নয়।

সময়ের অভাবের কারণে অনেকের সকালের খাবার তৈরী করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই জন্য দ্রুত কিছু রান্না করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন- সবজি, মাছ, ডাল আলাদা রান্না না করে একসাথে সবজি, ডাল, ডিম রান্না করতে পারেন। তার সাথে এক বা দুটি রুটি রাখতে পারেন আপনার খাদ্য তালিকায়।

বিকালের
সন্ধার পূর্বে বিকালে আপনি হালকা নাস্তা হিসেবে কোন একটি ফল বা সালাদ বা সুপ ইত্যাদি খেতে পারেন।

রাতের খাবার
সারা দিন কর্মব্যাস্ত সময় পার করার পর আমরা রাতে একটু আরাম করেই খেতে ভালোবাসি। আর রাতের খাবারে আমরা কি খাচ্ছি তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল খাবারের সময়। মানে আমরা কোন সময় খাচ্ছি। আমরা অনেকেই ব্যাস্তার কারণে অনেক বেশি দেরি হয়ে যায়। অনেক নারী রাতের খাবার তাড়াহুড়া করে খেয়ে শুয়ে পড়েন। তাতে করে খাবার সঠিক ভাবে হজম হয় না। যার ফলে ওজন বেড়ে যায় এবং ব্লাডে সুগার বেড়ে যেতে পারে। তাই রাতের খাবার ঘুমের ২-৩ ঘন্টা আগে খেতে হবে। সেই সময়টা হওয়া উচিত ৮-৯টার মধ্যে। খাবার হতে পারে রুটি দুটি সবজি এক কাপ এবং মাছ অথবা মুরগির মাংস এক টুকরা। রাতে ভাল ঘুমের জন্য টক দই খেতে পারেন। একটি নারীকে সুস্থ্য এবং শারীরিক কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে এবং প্রতিদিন ছয়-সাত ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

অ্যাসিডিটি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here