আবু আহমদ ফজলুল করিম

জন্ম

আবু আহমদ ফজলুল করিম ১৯২৮ সালে কিশোরগঞ্জের চৌদ্দশত ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভাগ্যান্বেষণে সুদূর ইয়েমেন থেকে এ দেশে এসেছিলেন।পরবর্তীকালে অবসর গ্রহণের পর ঈসা খাঁর তরফ থেকে বাৎসরিক ১৪০০ স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে বর্তমান চৌদ্দশত মৌজার তালুকদারি লাভ করেছিলেন। সেই থেকেই এলাকার নাম হয়েছে ‘চৌদ্দশত’।

তার পিতার নাম ইব্রাহীম ভূঞা ও মাতা রওশন আরা বিনু।

প্রাথমিক জীবন

ছেলেবেলাতেই তাঁর বাবা ও মাকে  হারান। চাচা আবদুল আহাদ ভুঁইয়ার কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি কোদালিয়া এস.আই. হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৪৫ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক, ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএসসি এবং ১৯৫৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

পেশা জীবন

আবু আহমদ ফজলুল করিম চিকিৎসক ছিলেন।

পেশাগত জীবন শুরুর সময় তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ডাক্তারি পাস করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাস করা সত্ত্বেও তাঁকে চাকরিতে যোগদান করতে দেয়া হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।

যেমন সফল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তেমনি একজন সৎ রাজনীতিবিদের মডেল ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েন।

রাজনৈতিক জীবন

৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিযোগে তিনি কারাবরণ করেছেন।

১৯৭৫ সালে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ভাসানী) যোগদান করেন ও ১৯৭৬ সালে এর কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব নেন। এ সময় তিনি ন্যাপ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য পদ লাভ করেন।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠিত হলে ভাসানী ন্যাপ বিলুপ্ত করে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ন্যাপ-এর সভাপতি ও বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে দলকে পরিচালনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করেন এবং তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরে তাঁকে ১৯৮০ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ও ১৯৮২ সালে আবার তাঁকে পূর্বের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দেয়া হয়।

আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় তিনি ২৪ নভেম্বর ১৯৮১ সাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বেতার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডা. ফজলুল করিম ছিলেন কিশোরগঞ্জের একজন কৃতী সন্তান। তাঁর কর্মময় জীবন, নিষ্ঠা ও সততা সকলের জন্য আদর্শ ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

মৃত্যু

আবু আহমদ ফজলুল করিম ২৯ এপ্রিলে ১৯৮৭ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here